মদিনা জিয়ারতের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলত

মদিনা জিয়ারতের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলতঃ ইসলাম-পূর্ব যুগে মদিনা শরীফের নাম ছিল ইয়াসরিব। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পর এই শহরের নাম হয় মদিনাতুন্নবী। মদিনাতুন্নবী মানে নবীজির শহর।. তবে এখন বলা হয় মদিনা and এই মদিনা প্রতিটি মু’মিন-মুসলমানদের প্রাণের ভূমি। মদিনা শরীফ হলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রিয় শহর; শান্তির নগর তাই এর মর্যাদা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক।

মদিনার গুরুত্ব ও মর্যাদা:

মদিনাতুর রাসূলের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
১. মক্কা শরীফের ন্যায় মদিনা শরীফও পবিত্র ও নিরাপদ শহর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,إِنَّ إِبْرَاهِيْمَ حَرَّم مَكَّةَ وإنّيْ حَرَّمْتُ الْمَدِيْنَةَ.অর্থ: নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম (আ.) মক্কাকে হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন আর আমি মদিনাকে হারাম ঘোষণা করেছি।[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪২৩]
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَدَعَا لأَهْلِهَا وَإِنِّى حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ كَمَا حَرَّمَ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ وَإِنِّى دَعَوْتُ فِى صَاعِهَا وَمُدِّهَا بِمِثْلَىْ مَا دَعَا بِهِ إِبْرَاهِيمُ لأَهْلِ مَكَّةَ.অর্থ: হযরত ইবরাহীম (আ.) মক্কাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার বাসিন্দাদের জন্য দোআ করেছেন। যেমনিভাবে ইবরাহীম (আ.) মক্কাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন, আমিও তেমন মদিনাকে হারাম ঘোষণা করেছি। আর আমি মদিনার সা’ ও মুদ-এ বরকতের দোআ করেছি যেমন মক্কার বাসিন্দাদের জন্য ইবরাহীম (আ.) দোআ করেছেন।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১২৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৬০]

৩. মদিনা যাবতীয় অকল্যাণকর বস্তুকে দূর করে দেয়।
হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,الْمَدِينَةُ كَالْكِيرِ تَنْفِي خَبَثَهَا وَيَنْصَعُ طِيبُهَا.অর্থ: মদিনা হলো (কামারের) হাপরের মতো, এটি তার যাবতীয় অকল্যাণ দূর করে দেয় এবং তার কল্যাণকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৮৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৮৩]
৪. শেষ যামানায় ঈমান মদীনায় ফিরে আসবে।

মদিনা জিয়ারতের গুরুত্ব তাৎপর্য ও ফযিলত


★ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,إنَّ الإِيْمَانَ لَيَأْرِزُ إلى المَدِيْنَةِ كما تَأْرِزُ الحيَّةُ إلى جُحْرِها.অর্থ: নিশ্চয়ই ঈমান মদিনার দিকে ফিরে আসবে যেমনিভাবে সাপ তার গর্তে ফিরে আসে।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৬৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৭]৫. রাসূল মদিনার জন্য বরকতের দোআ করেছেন।
★ হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,اَللَّهُمَّ اجْعَلْ بِالْمَدِينَةِ ضِعْفَيْ مَا جَعَلْتَ بِمَكَّةَ مِنَ الْبَرَكَةِ.অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মক্কায় যে বরকত দিয়েছেন মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দান করুন।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৮৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৬০]৬. মদীনায় মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করবে না।
★ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِيْنَةِ مَلاَئِكَةٌ، لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ.অর্থ: মদিনার প্রবেশ দ্বারসমূহে ফেরেশতারা প্রহরায় নিযুক্ত আছেন, এতে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৮০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৭৯]৭. মদিনায় মৃত্যুবরণ করার ব্যাপারে উৎসাহ দান।
Note:হযরত আব্দুল্লাহইবনে আমর(রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,مَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوْتَ بِالْمَدِيْنَةِ فَلْيَمُتْ بِهَا فَإِنِّيْ أَشْفَعُ لِمَنْ يَمُوْتُ بِهَا. অর্থ: যার পক্ষে মদিনায় মৃত্যুবরণ করা সম্ভব সে যেন সেখানে মৃত্যুবরণ করে, কেননা মদিনায় যে মারা যাবে আমি তার পক্ষে সুপারিশ করব। [সুনানে তিরমিজি, হাদীস নং ৩৯১৭]

মদিনা জিয়ারতের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলত
মদিনা জিয়ারতের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলত

মদিনার মসজিদে নববীর ফজিলত:

মসজিদে নববীর রয়েছে ব্যাপক মর্যাদা ও অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্ব। কুরআন ও হাদীসে এ সম্পর্কে একাধিক ঘোষণা এসেছে। নিম্নে কয়েকটি তুলে ধরলাম।
১. কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন,لَّمَسۡجِدٌ أُسِّسَ عَلَى ٱلتَّقۡوَىٰ مِنۡ أَوَّلِ يَوۡمٍ أَحَقُّ أَن تَقُومَ فِيهِۚ فِيهِ رِجَالٞ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُواْۚ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُطَّهِّرِينَ.অর্থ: অবশ্যই যে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার ওপর প্রথম দিন থেকে তা বেশী হকদার যে, তুমি সেখানে নামাজ আদায় করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন কিছু লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ তাআলাও উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।[সূরা তাওবা, ১০৮]এই আয়াতের তাফসীরে আল্লামা সামহুদী বলেন, কুবা ও মদিনা- উভয় স্থানের মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উক্ত আয়াতে তাই উভয় মসজিদের কথা বলা হয়েছে।[তারীখুল মদিনাতিল মুনাওয়ারা:সফিউর রহমান মুবারকপুরী, পৃ. ৭৫]

২. মসজিদে নববীতে নামাজ আদায়ের ফজিলত:

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,صَلاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ.অর্থ: আমার এ মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মসজিদে হারাম ছাড়া অন্যান্য মসজিদে এক হাজার ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেয়েও উত্তম।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৯৪]
★ অন্য হাদীসে এসেছে, হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي مَسْجِدِي بِخَمْسِينَ أَلْفِ صَلَاةٍ وَصلَاته فِي الْمَسْجِد الْحَرَام بِمِائَة ألف صَلَاة.অর্থ: কেউ যদি আমার মসজিদে (মসজিদে নববীতে) এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে তার এ নামাজ পঞ্চাশ হাজার ওয়াক্ত নামাজের সমান। আর কেউ যদি মসজিদে হারামে নামাজ আদায় করে তবে তার নামাজ এক লাখ নামাজের সমান।[সুনানে ইবনে মাযা, হাদীস নং ১৪১৩; মিশকাত শরীফ, হাদীস নং ৭৫২]

২. মসজিদে নববীতে নামাজ আদায়ের আরো ফজিলত:


★ আরেকটি হাদীসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, مَنْ صَلَّى فِي مَسْجِدِي أَرْبَعِينَ صَلاةً لا يَفُوتُهُ صَلاةٌ كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَةٌ مِنْ النَّارِ، وَنَجَاةٌ مِنْ الْعَذَابِ، وَبَرِئَ مِنْ النِّفَاقِ. ।অর্থ: কেউ যদি আমার মসজিদে নববীতে ধারাবাহিকভাবে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে তাহলে সে জাহান্নামের আজাব ও নেফাক থেকে মুক্তি পাবে।[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২১৭৩; মু’জামে তাবরানি, হাদীস নং ৫৪৪]
৩. মসজিদে নববীতে শিক্ষা করার ফজিলত:
হযরত আবুহুরায়রা(রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ)বলেন,مَنْ جَاءَ مَسْجِدِي هَذَا، لَمْ يَأْتِهِ إِلاَّ لِخَيْرٍ يَتَعَلَّمُهُ أَوْ يُعَلِّمُهُ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَمَنْ جَاءَ لِغَيْرِ ذَلِكَ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ يَنْظُرُ إِلَى مَتَاعِ غَيْرِهِ. অর্থ: যে আমার এই মসজিদে কেবল কোনো কল্যাণ শেখার জন্য কিংবা শেখানোর জন্য আসবে, তার মর্যাদা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য। পক্ষান্তরে যে অন্য কোন উদ্দেশ্যে তা দেখতে আসবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে অন্যের মাল-সামগ্রীর প্রতি তাকায়।[সুনানে ইবনে মাযা, হাদীস নং ২৭৭]
★ হযরত আবু উমামা বাহেলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لا يُرِيدُ إِلا أَنْ يَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ ُيعلِّمَهُ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ تَامًّا حِجَّتُهُ.অর্থ: যে ব্যক্তি একমাত্র কোন কল্যাণ শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে নববীতে আসবে, তার জন্য পূর্ণ একটি হজ্জের সওয়াব লেখা হবে।[মাজমাউয যাওয়াইদ: ১/১২৩]৪. রিয়াজুল জান্নাত:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঘর ও তাঁর মিম্বরের মাঝখানের জায়গাটুকুকে রিয়াজুল জান্নাত তথা জান্নাতের অন্যতম উদ্যান বলা হয়।
★ এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,مَا بَينَ بَيْتِيْ ومِنْبَرِيْ رَوْضَةٌ مِن رِيَاضِ الْجَنَّةٍ.অর্থ: আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মাঝখানের অংশটুকু জান্নাতের উদ্যানসমূহের একটি উদ্যান।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৬৩].

মদিনায় নবীজির রওদ্বা শরীফ যিয়ারত:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন,مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي.অর্থ: যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে আগমন করল।
তার জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ করা আমার কর্তব্য হয়ে পড়ল।[আল জামিউস সগীর লিস সূয়ুতী, হাদীস নং ৮৬৯৬; মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববরানী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ২২৫]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,ﻣَﻦ ﺣَﺞَّ ﻓَﺰﺍﺭَ ﻗَﺒﺮﻱ ﺑَﻌﺪَ ﻣَﻮﺗﻲ ﮐﺎﻥَ ﮐَﻤَﻦ ﺯﺍﺭَﻧﻲﻓﻲ ﺣَﻴﺎﺗﻲঅর্থ: যে কেউ হজ্জ করলো এবং আমার ওফাতের পর আমার কবর যিয়ারত করলো সে যেন আমাকে আমার জীবদ্দশায় যিয়ারত করলো।[আল জামিউস সগীর লিস সূয়ুতী; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৪৫-২৪৬; সুনানে দারা কুতনী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭৮; কামেলে ইবনে আদী]
★ অপর হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,ﻣَﻦ ﺯﺍﺭَ ﻗَﺒﺮﻱ ﺑَﻌﺪَ ﻣَﻮﺗﻲ ﮐﺎﻥَ ﮐَﻤَﻦ ﺯﺍﺭَﻧﻲ ﻓﻲ ﺣَﻴﺎﺗﻲ.অর্থ: আমার ওফাতের পর যে আমার কবর যিয়ারত করলো সে যেন আমি জীবিত অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাত করলো।[সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৪৫-২৪৬; সুনানে দারা কুতনী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭৮]
★ আরেক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,مَنْ حَجَّ الْبَيْتَ وَلَمْ يَزُرْنِىْ فَقَدْ جَفَانِىْ.অর্থ: যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ শরীফের হজ্জ করলো অথচ আমার রওদ্বা যিয়ারত করলো না, সে আমার প্রতি অন্যায় করলো।[কামেলে ইবনে আদী ও সুনানে দারা কুতনী].
মদিনায় হযরত ঈসা (আ.) এর কবর:হাদীস শরীফে এসেছে-عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ: مَكْتُوبٌ فِي التَّوْرَاةِ صِفَةُ مُحَمَّدٍ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ يُدْفَنُ مَعَهُ.‏ قَالَ: فَقَالَ أَبُو مَوْدُودٍ: وَقَدْ بَقِيَ فِي الْبَيْتِ مَوْضِعُ قَبْرٍ. অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাওরাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর গুনাবলী লেখা আছে এবং হযরত ঈসা (আ.)-কে তার সাথে (নবীজির সাথে) দাফন করা হবে। রাবী বলেন, আবু মওদুদ বলেছেন, নবীজির ঘরে কবরের জন্য একটা জায়গা অবশিষ্ট আছে।[সুনানে তিরমিজি, হাদীস নং ৩৬১৭; মিশকাত শরীফ, হাদীস নং ৫৭৭২]

মদিনায় জান্নাতুল বাকী যিয়ারত:

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে আল্লাহ তাআলা বাকীউল গারকাদ তথা জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে যাদের দাফন করা হয়েছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন।
★ এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, একদা আমার কাছে জিবরীল আমীন এসেছিলেন তিনি বললেন,إِنَّ رَبَّكَ يَأْمُرُكَ أَنْ تَأْتِىَ أَهْلَ الْبَقِيعِ فَتَسْتَغْفِرَ لَهُمْ. অর্থ: হে রাসূল! আপনার রব আপনাকে বাকী কবরস্থানে যেতে এবং তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার দোআ করতে বলেছেন।[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৭৪; সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ২০৩৯]

মদিনার মসজিদে কুবার ফজিলত:

মদিনা জিয়ারতের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলত. মসজিদে কুবার ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন ,مَنْ خَرَجَ حَتَّى يَأْتِىَ هَذَا الْمَسْجِدَ مَسْجِدَ قُبَاءٍ فَصَلَّى فِيهِ كَانَ لَهُ عِدْلَ عُمْرَةٍ.অর্থ: যে ব্যক্তি (ঘর থেকে) বের হয়ে এই মসজিদ অর্থাৎ মসজিদে কুবায় আসবে। তারপর এখানে নামাজ পড়বে। তা তার জন্য একটি ওমরার সমতুল্য।[মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩/১২]
★ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে চাইতেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন তিনি এ মসজিদের যিয়ারতে গমন করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাঁর অনুকরণে প্রতি শনিবার মসজিদে কুবার যিয়ারত করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন,كان النبي صلى الله عليه وسلم يأتي مسجد قباء كل سبت ماشيًا وراكبًا فيصلي فيه ركعتين.অর্থ: নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি শনিবারে হেঁটে ও বাহনে চড়ে মসজিদে কুবায় যেতেন। অতঃপর সেখানে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করতেন।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৯৯]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হজ্জে বাইতুল্লাহ ও যিয়ারতে মদিনা বিশেষ করে নবীজির রওদ্বা শরীফ শারীরিক ও আত্মীকভাবে বারংবার যিয়ারতের সৌভাগ্য দান করুন। আমীন!

মদিনা শরীফ জিয়ারতের ফজিলত,মদিনা শরীফ জিয়ারতের নিয়ম, মদিনার দর্শনীয় স্থান সমূহ, মদিনা জিয়ারতের নিয়ম ও দোয়া,মদিনা জিয়ারত করার দোয়া
বয়ান
হাফেজ নুরুল আমিন
খতিব
খালাশপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ